Life is a story makes yours the best seller

GHOST STORY


নিজের স্ত্রী সামিরাকে ও নিজের প্রিয় বন্ধু হাসিবকে একসাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। হঠাৎ চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে এলো। তারপর আর কিছুই মনে নেই যখন চোখ খুললাম তখন নিজেকে একটি কন্সট্রাকশন চলিত হাসপাতলে আবিস্কার করলাম। পাশে আমার বন্ধু আরিফ। আমিঃ বন্ধু আমি এখানে কেন? আরিফঃযাক অনেকক্ষণ পর তোর হুশ আসলো। আমিঃ আমার কি হয়েছিল? আমাকে এইরকম নির্জন হাসপাতালে নিয়ে এলি কেন? আরিফঃ তুই আমাকে বলেছিলি তুই তোর বউ সামিরাকে সারপ্রাইজ দিবি আর আমাকে বাইরে দাঁড়াতে বলছিলি। হঠাৎ করে আমি ঘরের ভেতর থেকে কিছু পরার আওয়াজ শুনছি। ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখলাম তুই মাঝেতে পরে আছিস। হঠাৎ করে কিছুক্ষণ আগে দেখা ঘটনাটি আবার মাথায় আসলো। নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। আমার চোখ যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার কোন আপন ভাই নেই। তাই হাসিবকে নিজের আপন ভাই মনে করেছিলাম। কোনো শর্ত ছাড়াই তাকে আমার কোম্পানির 25% শেয়ার দিয়েছিলাম। আর সামিরা সে তো আমার ভালোবাসার মানুষ কিন্তু কেন আমার সাথে প্রতারণা করলো? আরিফঃ কি হলো বন্ধু তুই কাঁদতেছোছ কেন? আমিঃ আরিফ আমাকে কোন প্রশ্ন করবি না আগে তুই আমার সব প্রশ্নের উত্তর দেয? আমার কিছুই মনে পড়ছে না আমি এখানে কেন? আরিফঃ তুই একটু শান্ত হয়ে বস আমি তোকে সব বলছি। 6 মাস আগের ঘটনা,, আরিফঃ টানা যে চার-পাঁচটা প্রজেক্ট আমরা করেছিলাম সবগুলোই ছিল সফল। যার ফলে আমাদের কোম্পানি তিন নম্বর থেকে সোজা এক নম্বরে চলে এসেছিল। তাই সব নামিদামি ব্যবসায়ীরা মিলে তোকে কংগ্রাচুলেশন জানানোর জন্য একটি ছোট্ট পার্টি এরেঞ্জ করেছিল।সেদিন আমাদের কোম্পানি "চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ" বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছিল। আর তুই (বাহাদুর চৌধুরি) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজনেসম্যান।বাংলাদেশের সব নামকরা ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে একটা পার্টি এরেন্জ করা হলো।তুই আর হাসিব গাড়ি করে পার্টিতে যাচ্ছিলি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেদিন তোদের অনেক বড় অ্যাক্সিডেন্ট হয়। সাথে সাথে তোকে হাসপাতালে নেওয়া হয় আর ডাক্তার জানায় তোর অবস্থা অনেক খারাপ। আমরা তো মনে করছিলাম তোকে আর বাঁচানো সম্ভব হবে না। তোর জ্ঞান কোনমতেই ফিরছিল না। সেদিন সে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সব নামিদামি ব্যবসায়ীরা এসেছিল কিন্তু তুই আসিস নি তাই মুহূর্তের মধ্যে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ হয়ে গেল যে তুই নিখোঁজ। আমিঃ তোরা চাইলে তো মিডিয়ার সামনে এটাও বলতে পারতি যে আমার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে? আরিফঃ তোর সিচুয়েশন তখন অনেক খারাপ ছিল, তাই ডাক্তাররা বলেছে হাসপাতালে যেন কোন রকম ঝামেলা না হয়। না হলে তোকে বাঁচানো কোনোভাবেই পসিবল হবে না। আর এত বড় একটি ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট এর অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে জানলে মিডিয়া নিশ্চিত ঝামেলা করতো। তাই পুলিশ অফিসার মিজান আমাকে উপদেশ দিলেন, তোর এক্সিডেন্টের খবরটাকে মিডিয়ার সামনে নিখোঁজের খবর বানিয়ে দিতে। আমি চারদিকে চোখ দেখলাম যে বিল্ডিং এ বর্তমানে আমি আছি সে বিল্ডিং এর এখনো আরো অনেক কাজ বাকি। পুরো বিল্ডিংটি এখনো রেডি হয়নি। মনে হচ্ছিল কোন পরিত্যক্ত বিল্ডিং। আর এই পরিত্যক্ত বিল্ডিং এর মধ্যে একটি ফ্লোর আমার জন্য হাসপাতালের মতো করে সাজানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী ছাড়া তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নেই। আমিঃ তাই বলে কি তোরা আমাকে এরকম নির্জন একটি বিল্ডিং এ রাখবি? আরিফঃ মূলত মিডিয়ার ঝামেলা এড়াতেই আমরা এই পদক্ষেপটি নিলাম। এমনকি শুধু মিডিয়াই না তোর ফ্যামিলি মেম্বারদের কে ও জানালো হলো যে তুই নিখোঁজ। আর আরেকটা কথা? আমিঃ কি বল? আরিফঃ তোর অ্যাক্সিডেন্টের পড়ে ব্যবসাতে অনেক বড় একটি লস হলো। আর সাথে সাথে আমাদের কোম্পানি বর্তমানে নয় নাম্বারে নেমে গেছে। একটু পরে একজন ডাক্তার এলো। এই ডাক্তারকে আমি আজ পর্যন্ত কখনো দেখিনি। আমার ফ্যামিলি ডাক্তার থাকা সত্ত্বেও এই ডাক্তারকে দিয়ে কেন আমার চিকিৎসা করানো হলো? আমিঃ কি রে আরিফ ডাক্তার আজিম থাকার সত্ত্বেও আমাকে অন্য ডাক্তার দিয়ে কেন চিকিৎসা করানো হচ্ছে? আরিফঃ দেখ আমরা কাউকে জানায় নি তোর এই এক্সিডেন্টের কথা। যদি ডক্টর আজিম তোর ট্রিটমেন্ট করত তাহলে তোর পরিবার জেনে যেত। এক মুহুর্ত মনে হলো আরিফ যা বলছে তা ঠিকই বলছে। ডাক্তারটি এসে আমাকে একেবারে 7-8 রকম ঔষধ দিয়ে গেলেন। আমাকে দেখতেও দিলেন না যে সেগুলো কিসের ওষুধ। আমিঃআরে এতগুলো কিসের ঔষধ? আরিফঃ তোর থেকে কিছু চিন্তা করতে হবে না তুই খা। আরিফও জোর করে আমাকে ওষুধগুলো খাইয়ে দিলো। একটু পরে একজন পুলিশ অফিসার এলো।বুঝতে আর দেরি হলো না যে ওনিই মিজান। পুলিশ অফিসার মিজানঃ স্যার আপনার যদি কিছু প্রয়োজন হয় আমাদের বলতে পারেন। আমিঃ আচ্ছা কিছু লাগলে অবশ্যই জানাবো। পুলিশ অফিসার মিজানঃস্যার আপনি আরেকটু সুস্থ হলে আপনাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে আপনার বাসায়। আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আরিফঃ আচ্ছা আমি জানাবো উনি সুস্থ হলে।আপনি এখন আসতে পারেন। এতটুকু বলে মিজান সেখান থেকে চলে গেল। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না গত 6 মাসে কি হল? আর আজকে আমি কি দেখলাম? কিছুই মাথায় ঢুকছেনা। আরিফঃ দেখ তুই আর একটু সুস্থ হলে সব টিক হয়ে যাবে।দীর্ঘ ছয় মাস পর আজকে যখন তোর জ্ঞান ফিরল তখন তুই শুধু তোর স্ত্রী সামিরা কে দেখতে চেয়েছিলি, তাই আমি তোকে বাসায় নিয়ে গেলাম।বাসায় যাওয়ার পর তুই বললি আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু বাসার ভেতর থেকে কিছু পরার আওয়াজ পেলাম।
ঘরের ভিতরে ঢুকতেই দেখলাম তুই মেঝেতে পড়ে আছোছ। তাই আর সাত-পাচ না ভেবে তোকে এখানে নিয়ে এলাম।আচ্ছা কি এমন দেখলি যে তুই অজ্ঞান হয়ে গেলি? আমিঃ ব্যবসায় লোকসান হয়েছে তাই বলে কি সামিরা আমার সাথে এত বড় প্রতারণা করবে? আরিফঃ তুই এগুলো কি বলছিস? আমিঃ শুধু সামিরাই না বরং হাসিবও আমার সাথে অনেক বড় প্রতারণা করেছে? আরিফঃ তুই কি বলতে চাচ্ছিস তুই নিজেও জানিস না। আমিঃ কেন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম তুই এটাই জানতে চাচ্ছিস তাই না? আরিফঃ হ্যা,সেটাই। আমিঃসামিরা কে সারপ্রাইজ দিতে আমি যখন বাসায় ঢুকলাম তখন দেখলাম সামিরা ও হাসিব একে অপরের সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত। আরিফ চুপ, আরিফ কিছুই বলছে না। আরিফের চোখে পানি টলমল করছে। মনে হচ্ছে পলক ঝাপটালেই সব পানি গড়িয়ে পড়বে। আমিঃ কি হল চুপ করে আছিস কেন, কিছু বল? ব্যবসায় লোকসান ও অ্যাক্সিডেন্ট এই দুটোই কি আমার জীবনের সর্বনাশ। হাসিবকে তো আমি আমার ভাই থেকে কম ভাবি নি কিন্তু তাও কেন সে আমার সাথে এত বড় প্রতারণা করল। আরিফঃ বাস অনেক হয়েছে, বাহাদুর আর না,হাসিবকে নিয়ে আর একটা কথাও বলবি না। হাসিব গত ছয় মাস আগে মারা গেছে। কথাটি শোনার সাথে সাথে আমি যেন থমকে গেলাম। কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেলাম। আরিফঃ 6 মাস আগে তোরা যখন পার্টিতে যাচ্ছিলি তখন তোর সাথে গাড়িতে হাসিবও ছিল। এক্সিডেন্ট এর পর তোকে তোকে বাঁচানো গেলেও হাসিবকে আর বাঁচানো গেল না। পুলিশ অফিসার মিজান আমাদের কে বলেছিল যতদিন তুই সুস্থ না হবি ততদিন হাসিবের মৃত্যুর ব্যাপারটা মিডিয়া থেকে গোপন রাখতে। কারণ হাসিব তোর কোম্পানির 25% শেয়ার পার্টনার ছিল। আরিফের কথাটি শোনার সাথে সাথে আমার মাথায় কিছুই ঢুকছিল না। মনের মধ্যে শুধু একটি কথাই বারবার আসছিল,আজকে আমি যাকে সামিরার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে দেখেছিলাম তাহলে সে ..........

No comments

Theme images by imagedepotpro. Powered by Blogger.