oshoriri
রোশনীর সাথে অনেক দিন পর আজ দেখা। প্রায় পাঁচ বছর তো হবেই।
রোশনীকে অনেকটা টেনশন মুক্ত ফুরফুরে আর খুশি দেখাচ্ছে। ধবধবে সাদা রংয়ের শাড়ী পরে আছে রোশনী।
রোশনী দেখতে ঠিক পাঁচ বছর আগে যেমন ছিলো এখনো তেমনটাই আছে। বরং মনে হচ্ছে আগের থেকে আরো বেশীই সুন্দর হয়েছে। শরীরের উজ্জলতা বেড়েছে।
--কেমন আছো শুভ? আজ পাঁচ বছর ধরে তোমার অপেক্ষায় আছি আমি। এ পাঁচ বছরে অনেক পাল্টে গেছো তুমি। কত্তবার যে তোমাকে আমার কাছে পেতে চেয়েছি,কিন্তু পাইনি। কারন, তোমার যে যাবার সময় আসেনি। এতো বছর পর আজ তোমার সময় এসেছে।
--রোশনী তুমি? তুমি এখানে কিভাবে এলে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি এখন কোথায় রোশনী? আমাকে বলো প্লিজ...
--তুমি অনেক বদলে গেছো শুভ,আমি ভেবেছিলাম আমাকে দেখে তুমি খুশি হবে,তা নয় রাজ্যের প্রশ্ন জুড়ে দিয়েছো। তুমি এখন আমার কাছে আছো। আর হ্যা,এখন থেকে আমরা এক সাথেই থাকবো...
--মাম..মা..মানে!! কিন্তু রোশনী তুমি তো পাঁচ বছর আগেই মারা গেছো...
--তাহলে তুমি কি নিজেকে জীবিত ভেবেছো শুভ?
--মানে কি বলছো এইসব? তবে আমিও কি মারা গিয়েছি?
--হ্যা,মারা গিয়েছো ২৮.০২.২০২০ সময় রাত নয়টা বেজে পনেরো মিনিট। একটা মালবাহী ট্রাক তোমার বাইককে ধাক্কা মেরে চাকায় পিশে মেরে ফেলেছে।
মগজ গুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে এখনো রাস্তায় পরে আছে। তুমি তোমার মৃত নিথর দেহটা দেখতে চাও শুভ?
--না রোশনী না,আমি দেখতে চাই না,প্লিজ আমি চাই না...
--আচ্ছা শুভ,আমাকে তুমি কেনো মেরে ফেলেছিলে? কি দোষ ছিলো আমার?
--না রোশনী না আমি তোমাকে মারতে চাইনি...
--এই,আরে এই শুভ...কি হলো?এভাবে চিৎকার দিচ্ছো কেনো? কি হয়েছে তোমার? ঘুম থেকে উঠো বলছি...আর এতো বছর পর হঠাৎ রোশনীর কথা বলছো কেনো?
--ইয়ে মানে না কাজল,কিছু না। এমনিই বলেছি।আজকে কত তারিখ কাজল?
--২৭/০২/২০২০ কেনো,কি হয়েছে?
--না কিছু না।কাজল,আমি দু'একদিন অফিসে যাবো না। এখন আমাকে একটু একা থাকতে দাও। তুমি অন্য ঘরে যাও...
--শুভ,এই শুভ বলো না গো,আমাকে কেন মেরেছিলে? কি দোষ ছিলো আমার?
-- রোশনী! এটা রোশনীর গলা,কোথায় তুমি রোশনী? আমি তো বেঁচে আছি... বিশ্বাস করো আমি তোমাকে মারতে চাইনি,আমি ওদের বলেছিলাম তোমাকে শুধু ভয় দেখাতে,কিন্তু তুমি ভয় পেয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে ট্রাকের নিচে চাপা পরেছিলে। বিশ্বাস করো...আমি ইচ্ছে করে তোমাকে মারিনি...
--কিন্তু,আমি মরে তো গেছি শুভ। আমি যে এখানে একা থাকতে পারছি না। তোমাকে বড্ড ভালোবাসি। তাই তোমাকে আমার সাথে আসতে হবে যে শুভ। ঠিক আমার মতো করেই তোমাকে আমার কাছে আসতে হবে। ঠিক আমার মতই ট্রাকের নিচে চাপা পরে। মাথাটা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। মগজ গুলো রাস্তায় পরে থাকবে। খুব ভালো হবে তাই না শুভ? আমি এই দিনটার জন্য সেই পাঁচ বছর থেকেই অপেক্ষায় আছি,আজকের পর থেকে আমি আর তুমি এক সাথে থাকবো...
--না রোশনী না,আমি এমন মৃত্যু চাই না। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করো তুমি...
--হাহাহাহাহা শুভ,আর তো মাত্র একটা দিন। অপেক্ষা করো আমি আবার আসবো। তোমাকে নিয়ে যেতে আসবো আমি...
--না...এই কয়দিন আমি বাহিরে যাবো না। নিজেকে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি করে ফেলবো। কাজল...কাজল আমার একা খুব ভয় করছে। কাজল এই কাজল...কোথায় তুমি??
--শুভ,কি হয়েছে তোমার??আমি তো তোমার সামনেই আছি এতোক্ষণ ধরে। সেই তখন থেকে দেখছি আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বিরবির করতেছো,এই কি হয়েছে তোমার?এভাবে চিৎকার ই বা করছো কেনো?
--না...না...না তুমি কাজল নও,তুমি তো রোশনী। রোশনী প্লিজ...আমাকে মাফ করে দাও। আমি ইচ্ছে করে তোমাকে মারিনি।
--শুভ,এই শুভ কি হয়েছে তোমার?? ভালো করে দেখো আমি কাজল,তোমার কাজল। রোশনী তো মারা গেছে সেই পাঁচ বছর আগে। তোমার কথায় আমিই তো মজা করার ছলে ওকে ট্রাকের নিচে ঢাক্কা দিয়ে মেরে ফেলেছিলাম,যাতে আমাদের বিয়েতে কোন বাঁধা না থাকে এ জন্য...
--চুপ করো কাজল,রোশনী এখানেই আছে,ও শুনতে পাবে...
--শুভ,তুমি কি পাগল হয়েছো?? মরা মানুষ কি ফেরত আসে নাকি?এই...এই..একি! কি হচ্ছে আমার সাথে। শুভ আমি উপরে উঠে যাচ্ছি কেমন করে? শুভ আমাকে বাঁচাও,কে যেনো আমাকে উপরে টেনে নিচ্ছে। শুভ বাঁচাও আমাকে প্লিজ...শুভ............!
--কাজল!এই কাজল,কথা বলো...এইটা তুমি কি করলে রোশনী? কেনো কাজলকে এভাবে মেরে ফেললে...
(কাজলের প্রাণহীন নিথর দেহটা পরে আছে। মাথা থেকে মগজ ছিটকে আলাদা হয়ে গেছে। চার দিকে রক্ত। ঘুটঘুটে অন্ধকার। সাথে রোশনীর ভয়ংকর অট্ট হাসি,এইবার তোমার পালা শুভ!!)
আজ ২৮/০২/২০২০
ঠিক রাত নয়টা বেজে পনেরো মিনিট।
নিশব্দ হাইওয়েতে একটা বিকট শব্দ হলো। ট্রাকের নিচে শুভ'র পিষে যাওয়া মাথা,ছিন্ন হয়ে গিয়েছে দেহ থেকে। মগজ গুলো মাথা ফেটে বেড় হয়ে মাটিতে লাফাচ্ছে।
আজ ০১/০৩/২০২০ সকাল নয়টা পনেরো মিনিট,
কয়েকজন পুলিশ শুভ'র লাশটা মর্গে পাঠানোর ব্যাবস্থা করতেছে। পুলিশের ধারনা শুভ তার স্ত্রী কাজলকে খুন করেছে,এবং ভয় পেয়ে পালাতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় ঝোকের মাথায় বাইক এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে।
পরিশিষ্টঃঠিক রাস্তার উল্টোপাশে ধবধবে সাদা শাড়ি পরিহীতা এক অল্পবয়সী মেয়ে খোলা চুলে দারিয়ে অট্ট হাসি হাসতেছে,বাতাসে তার চুলগুলো সাগরের ঢেউয়ের মতই দোল খাচ্ছে...
রোশনীকে অনেকটা টেনশন মুক্ত ফুরফুরে আর খুশি দেখাচ্ছে। ধবধবে সাদা রংয়ের শাড়ী পরে আছে রোশনী।
রোশনী দেখতে ঠিক পাঁচ বছর আগে যেমন ছিলো এখনো তেমনটাই আছে। বরং মনে হচ্ছে আগের থেকে আরো বেশীই সুন্দর হয়েছে। শরীরের উজ্জলতা বেড়েছে।
--কেমন আছো শুভ? আজ পাঁচ বছর ধরে তোমার অপেক্ষায় আছি আমি। এ পাঁচ বছরে অনেক পাল্টে গেছো তুমি। কত্তবার যে তোমাকে আমার কাছে পেতে চেয়েছি,কিন্তু পাইনি। কারন, তোমার যে যাবার সময় আসেনি। এতো বছর পর আজ তোমার সময় এসেছে।
--রোশনী তুমি? তুমি এখানে কিভাবে এলে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি এখন কোথায় রোশনী? আমাকে বলো প্লিজ...
--তুমি অনেক বদলে গেছো শুভ,আমি ভেবেছিলাম আমাকে দেখে তুমি খুশি হবে,তা নয় রাজ্যের প্রশ্ন জুড়ে দিয়েছো। তুমি এখন আমার কাছে আছো। আর হ্যা,এখন থেকে আমরা এক সাথেই থাকবো...
--মাম..মা..মানে!! কিন্তু রোশনী তুমি তো পাঁচ বছর আগেই মারা গেছো...
--তাহলে তুমি কি নিজেকে জীবিত ভেবেছো শুভ?
--মানে কি বলছো এইসব? তবে আমিও কি মারা গিয়েছি?
--হ্যা,মারা গিয়েছো ২৮.০২.২০২০ সময় রাত নয়টা বেজে পনেরো মিনিট। একটা মালবাহী ট্রাক তোমার বাইককে ধাক্কা মেরে চাকায় পিশে মেরে ফেলেছে।
মগজ গুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে এখনো রাস্তায় পরে আছে। তুমি তোমার মৃত নিথর দেহটা দেখতে চাও শুভ?
--না রোশনী না,আমি দেখতে চাই না,প্লিজ আমি চাই না...
--আচ্ছা শুভ,আমাকে তুমি কেনো মেরে ফেলেছিলে? কি দোষ ছিলো আমার?
--না রোশনী না আমি তোমাকে মারতে চাইনি...
--এই,আরে এই শুভ...কি হলো?এভাবে চিৎকার দিচ্ছো কেনো? কি হয়েছে তোমার? ঘুম থেকে উঠো বলছি...আর এতো বছর পর হঠাৎ রোশনীর কথা বলছো কেনো?
--ইয়ে মানে না কাজল,কিছু না। এমনিই বলেছি।আজকে কত তারিখ কাজল?
--২৭/০২/২০২০ কেনো,কি হয়েছে?
--না কিছু না।কাজল,আমি দু'একদিন অফিসে যাবো না। এখন আমাকে একটু একা থাকতে দাও। তুমি অন্য ঘরে যাও...
--শুভ,এই শুভ বলো না গো,আমাকে কেন মেরেছিলে? কি দোষ ছিলো আমার?
-- রোশনী! এটা রোশনীর গলা,কোথায় তুমি রোশনী? আমি তো বেঁচে আছি... বিশ্বাস করো আমি তোমাকে মারতে চাইনি,আমি ওদের বলেছিলাম তোমাকে শুধু ভয় দেখাতে,কিন্তু তুমি ভয় পেয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে ট্রাকের নিচে চাপা পরেছিলে। বিশ্বাস করো...আমি ইচ্ছে করে তোমাকে মারিনি...
--কিন্তু,আমি মরে তো গেছি শুভ। আমি যে এখানে একা থাকতে পারছি না। তোমাকে বড্ড ভালোবাসি। তাই তোমাকে আমার সাথে আসতে হবে যে শুভ। ঠিক আমার মতো করেই তোমাকে আমার কাছে আসতে হবে। ঠিক আমার মতই ট্রাকের নিচে চাপা পরে। মাথাটা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। মগজ গুলো রাস্তায় পরে থাকবে। খুব ভালো হবে তাই না শুভ? আমি এই দিনটার জন্য সেই পাঁচ বছর থেকেই অপেক্ষায় আছি,আজকের পর থেকে আমি আর তুমি এক সাথে থাকবো...
--না রোশনী না,আমি এমন মৃত্যু চাই না। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করো তুমি...
--হাহাহাহাহা শুভ,আর তো মাত্র একটা দিন। অপেক্ষা করো আমি আবার আসবো। তোমাকে নিয়ে যেতে আসবো আমি...
--না...এই কয়দিন আমি বাহিরে যাবো না। নিজেকে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি করে ফেলবো। কাজল...কাজল আমার একা খুব ভয় করছে। কাজল এই কাজল...কোথায় তুমি??
--শুভ,কি হয়েছে তোমার??আমি তো তোমার সামনেই আছি এতোক্ষণ ধরে। সেই তখন থেকে দেখছি আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বিরবির করতেছো,এই কি হয়েছে তোমার?এভাবে চিৎকার ই বা করছো কেনো?
--না...না...না তুমি কাজল নও,তুমি তো রোশনী। রোশনী প্লিজ...আমাকে মাফ করে দাও। আমি ইচ্ছে করে তোমাকে মারিনি।
--শুভ,এই শুভ কি হয়েছে তোমার?? ভালো করে দেখো আমি কাজল,তোমার কাজল। রোশনী তো মারা গেছে সেই পাঁচ বছর আগে। তোমার কথায় আমিই তো মজা করার ছলে ওকে ট্রাকের নিচে ঢাক্কা দিয়ে মেরে ফেলেছিলাম,যাতে আমাদের বিয়েতে কোন বাঁধা না থাকে এ জন্য...
--চুপ করো কাজল,রোশনী এখানেই আছে,ও শুনতে পাবে...
--শুভ,তুমি কি পাগল হয়েছো?? মরা মানুষ কি ফেরত আসে নাকি?এই...এই..একি! কি হচ্ছে আমার সাথে। শুভ আমি উপরে উঠে যাচ্ছি কেমন করে? শুভ আমাকে বাঁচাও,কে যেনো আমাকে উপরে টেনে নিচ্ছে। শুভ বাঁচাও আমাকে প্লিজ...শুভ............!
--কাজল!এই কাজল,কথা বলো...এইটা তুমি কি করলে রোশনী? কেনো কাজলকে এভাবে মেরে ফেললে...
(কাজলের প্রাণহীন নিথর দেহটা পরে আছে। মাথা থেকে মগজ ছিটকে আলাদা হয়ে গেছে। চার দিকে রক্ত। ঘুটঘুটে অন্ধকার। সাথে রোশনীর ভয়ংকর অট্ট হাসি,এইবার তোমার পালা শুভ!!)
আজ ২৮/০২/২০২০
ঠিক রাত নয়টা বেজে পনেরো মিনিট।
নিশব্দ হাইওয়েতে একটা বিকট শব্দ হলো। ট্রাকের নিচে শুভ'র পিষে যাওয়া মাথা,ছিন্ন হয়ে গিয়েছে দেহ থেকে। মগজ গুলো মাথা ফেটে বেড় হয়ে মাটিতে লাফাচ্ছে।
আজ ০১/০৩/২০২০ সকাল নয়টা পনেরো মিনিট,
কয়েকজন পুলিশ শুভ'র লাশটা মর্গে পাঠানোর ব্যাবস্থা করতেছে। পুলিশের ধারনা শুভ তার স্ত্রী কাজলকে খুন করেছে,এবং ভয় পেয়ে পালাতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় ঝোকের মাথায় বাইক এক্সিডেন্ট করে মারা গেছে।
পরিশিষ্টঃঠিক রাস্তার উল্টোপাশে ধবধবে সাদা শাড়ি পরিহীতা এক অল্পবয়সী মেয়ে খোলা চুলে দারিয়ে অট্ট হাসি হাসতেছে,বাতাসে তার চুলগুলো সাগরের ঢেউয়ের মতই দোল খাচ্ছে...



No comments